কাঠের আসবাবে ছত্রাক পড়েছে? সহজ সমাধান রইল হাতের কাছে

2nd February 2024 9:16 pm Country News
কাঠের আসবাবে ছত্রাক পড়েছে? সহজ সমাধান রইল হাতের কাছে


বাড়িতে কাঠের আসবাব থাকলে তার দিকে একটু বেশিই নজর দিতে হয়। কারণ, কাঠের আসবাব যত পুরনো হয়, ততই তা উজ্জ্বলতা হারায়। শুধু উজ্জ্বলতা নয়, অনেক সময়ই দেখা যায় কাঠের আসবাবে ছত্রাক পড়েছে। কাঠের আসবাবে ছত্রাক পড়লে আসবাব কিন্তু নষ্ট হয়ে যায়, তাই এই বিষয়ে নজর রাখাটা জরুরি। তা কী করবেন?দরজা বা জানালা থেকে আসবাব দূরে রাখুন। যেন বৃষ্টির জল না পড়ে।কাঠের আসবাবে ছত্রাকের সমস্যা থেকে রেহাই দিতে পারে বার্নিশ। কাঠের কাজ যারা করেন, তাদের দিয়ে বছর দু'বার বা অন্তত একবার কাঠের আসবাব বার্নিশ করিয়ে নিন। বিশেষ করে বর্ষার আগে বার্নিশ করালে আসবাব ভাল থাকবে। এটা নিয়মিত করলে কাঠের আসবাব বহুদিন চলবে।কাঠের আসবাব কি মাটি ছুঁয়ে আছে? তা হলে সেখান থেকেও বাষ্প উপরে উঠে আসতে পারে। আসবাবের পায়াগুলির তলায় ধাতব কিছু রেখে দিন। দেখবেন এতে সমস্যা মিটবে।আসবাবের উপর বর্ষাকালে বেশি ধুলা জমতে দেবেন না। ধুলা বাতাসের জলীয়বাষ্প টেনে আনে। তাই নিয়মিত কাঠের আসবাব পরিষ্কার করুন।আসবাবের উপরের ধুলা পরিষ্কার করতে ভেজা কাপড় একেবারেই ব্যবহার করবেন না। তা হলে ছত্রাক দূর তো হবেই না, উলটে সমস্যা আরও বাড়বে।বর্ষাকালে কাঠের আসবাবের পাল্লা আঁটোসাঁটো হয়ে গেলে তেল দেবেন না। তাতেও কাঠের ক্ষতি হয়। এই ধরনের সমস্যা দূর করতে স্প্রে মোম পাওয়া যায়। সেটা ব্যবহার করুন।কাঠের আসবাব এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত রোদ আসে। সঙ্গে খেয়াল রাখবেন বৃষ্টির জল যেন কোনওভাবে কাঠের আসবাবের গায়ে না লাগে।কোনও কারণে কাঠের আসবাবে জল পড়লে, সঙ্গে সঙ্গে মুছে নিন। কাঠের আসবাবে জল থেকে গেলে ছত্রাক জন্মানোর সুযোগ বেড়ে যায়।





Others News

বিশ্ব অর্থনীতিতে পালাবদল: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি

বিশ্ব অর্থনীতিতে পালাবদল: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে জটিলতা বাড়ছে, ঠিক তখনই অর্থনৈতিক সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আজ সারা বিশ্বের নজর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির দিকে, যাকে বিশ্লেষকরা "মাদার অফ অল ডিলস" (Mother of All Deals) বা সর্বকালের সেরা চুক্তি বলে অভিহিত করছেন। ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে স্বাক্ষরিত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) প্রায় ২৭ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্মিলিত বাজার উন্মুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যান্য জায়গায় যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বা আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধের খবর শিরোনাম হচ্ছে, তখন এই বিশাল চুক্তিটি আজকের দিনের সবচেয়ে ইতিবাচক এবং গঠনমূলক ঘটনা হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির ভরকেন্দ্র পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একনজরে এই চুক্তির মূল বিষয়গুলো
দীর্ঘ কয়েক বছরের জটিল আলোচনার পর, এই সপ্তাহে বিশ্বের দুটি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক বাজারের মধ্যে একটি নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্য করিডোর তৈরির লক্ষ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিশালতা: এই চুক্তির আওতাভুক্ত অর্থনীতিগুলো একত্রে বিশ্বের মোট জিডিপির (GDP) প্রায় ২৫%।

শুল্ক হ্রাস: বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ৯০%-এরও বেশি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে। ভারতের টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য এবং কৃষিপণ্য ইউরোপে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় যন্ত্রপাতি, অটোমোবাইল এবং ওয়াইন ভারতে অনেক কম বাধায় প্রবেশ করতে পারবে।

ডিজিটাল ও পরিষেবা: ডিজিটাল বাণিজ্য এবং পরিষেবার ওপর একটি শক্তিশালী অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে, যা পেশাজীবীদের চলাচল সহজ করবে। এতে ভারতের আইটি (IT) খাত এবং ইউরোপের বিশেষায়িত ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মগুলো লাভবান হবে।

"এটি কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়; এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস। বিভাজনের যুগে ভারত এবং ইউরোপ একীভবনকে বেছে নিচ্ছে।" — ইইউ ট্রেড কমিশনার (কাল্পনিক প্রেক্ষাপট)

কেন এটি এখন গুরুত্বপূর্ণ?
এই চুক্তির বিষয়বস্তুর মতোই এর সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যান্য অংশে যখন বিচ্ছিন্নতাবাদের ঢেউ দেখা যাচ্ছে, তখন এই চুক্তি একটি কৌশলগত ভারসাম্য হিসেবে কাজ করবে।

১. বিশ্ববাজারের অস্থিরতা থেকে সুরক্ষা সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমদানির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মতো শক্তি-সমৃদ্ধ অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত-ইইউ চুক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি "নিরাপদ আশ্রয়" তৈরি করেছে। এটি ডলার-নির্ভর বাণিজ্য যুদ্ধের অস্থিরতা এড়িয়ে একটি নিয়মমাফিক ও অনুমানযোগ্য বাণিজ্যের পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

২. সবুজ বা পরিবেশবান্ধব রূপান্তর (Green Transition) পুরানো বাণিজ্য চুক্তিগুলোর তুলনায় এটি স্থায়িত্ব বা সাস্টেইনিবিলিটির ওপর অনেক বেশি জোর দিয়েছে। এতে প্যারিস চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। ইউরোপের উন্নত ক্লিন-এনার্জি প্রযুক্তি এখন ভারতের দ্রুত শিল্পায়নে সহায়তা করবে, এবং ভারত পশ্চিমের জন্য গ্রিন হাইড্রোজেন ও সোলার যন্ত্রাংশের উৎপাদন হাব হয়ে উঠবে।ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
উভয় দেশের সংসদে এই চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সাথে সাথে নয়াদিল্লি এবং ব্রাসেলসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই চুক্তি সেই ধারণাটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে যে বিশ্বায়ন বা গ্লোবালাইজেশন মৃত। বরং এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে একটি 'রি-গ্লোবালাইজেশন' বা নতুন করে বিশ্বায়নের প্রক্রিয়া চলছে—যেখানে সমমনা গণতান্ত্রিক দেশগুলো একটি অনিশ্চিত বিশ্বের ধাক্কা সামলাতে নিজেদের মধ্যে শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।

আজকের শিরোনাম "মাদার অফ অল ডিলস" হলেও, এটি সম্ভবত আগামী দশকের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

আজকের অন্যান্য ইতিবাচক খবর:

চিকিৎসা বিজ্ঞানে বড় সাফল্য: বিজ্ঞানীরা একটি যুগান্তকারী জিন থেরাপির ঘোষণা দিয়েছেন যা আগে "নিরাময় অযোগ্য" বলে বিবেচিত ব্লাড ক্যান্সার সারাতে সফল হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে রোগীদের মনে নতুন আশা জাগাচ্ছে।

পরিবেশগত জয়: মাটির নিচে থাকা ফাংগাল নেটওয়ার্ক বা ছত্রাক নিয়ে গবেষণার জন্য একজন জীববিজ্ঞানীকে "পরিবেশ নোবেল" দেওয়া হয়েছে। তার কাজ মাটিতে কার্বন শোষণের ক্ষমতা আমূল পরিবর্তন করতে পারে।