আফগানিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণ, শুক্রবারের নমাজ চলাকালীন কেঁপে উঠল শিয়াদের প্রার্থনাস্থল

13th October 2023 10:17 pm Global News
আফগানিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণ, শুক্রবারের নমাজ চলাকালীন কেঁপে উঠল শিয়াদের প্রার্থনাস্থল


শুক্রবারের নমাজ চলাকালীন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল উত্তর আফগানিস্তানের একটি শিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদ। বাঘলান প্রদেশের রাজধানী পোল-ই-খোমরিতে বিস্ফোরণের জেরে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও বিস্ফোরণে কত মানুষ হতাহত হয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তালিবান সরকার বিস্ফোরণের খবরের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছে।

 

প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে যে, এক জন আত্মঘাতী জঙ্গি বুকে বিস্ফোরক বেঁধে নমাজের সময় পোল-ই-খোমরির ইমাম জ়ামান মসজিদে ঢুকে পড়ে। শিয়া সম্প্রদায়ভুক্তরা যখন নমাজ পড়ায় মগ্ন তখনই বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে হতাহতের সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। কিন্তু স্থানীয়দের আশঙ্কা, বহু মানুষের প্রাণহানি হতে পারে।

 

ঘটনার দৃশ্য বলে দাবি করে একাধিক ছবি এবং ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ঘুরতে শুরু করেছে সমাজমাধ্যমে। কিন্তু ওই ছবি বা ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের পরের চিত্র। প্রার্থনাস্থলে এ দিক-ও দিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে জিনিসপত্র। বেশ কয়েক জনকে দেখা যাচ্ছে মাটিতে পড়ে থাকতে। যদিও সেই ভিডিয়ো যে শুক্রবারেরই তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ রয়েছে। ভূমিকম্প বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনাও নতুন নয়। তালিবান ক্ষমতা পুনর্দখলের পর থেকেই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে লাগাতার। আইএস জঙ্গিদের সঙ্গেও তালিবানের লড়াই জারি রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত মসজিদে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি সংগঠনই।





Others News

ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ খনি ধস: ২০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা তারিখ

ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ খনি ধস: ২০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা তারিখ


 

স্থান: রুবায়া, উত্তর কিভু প্রদেশ, ডিআর কঙ্গো

আজকের দিনের অন্যতম শোকাবহ সংবাদ এসেছে আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো থেকে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর কিভু প্রদেশের রুবায়া (Rubaya) এলাকায় একটি কোলটান খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২০০ জন মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনার বিস্তারিত
গত ২৯ জানুয়ারি, বুধবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে খনি এলাকাটির মাটি অত্যন্ত নরম ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। খনিতে কর্মরত শ্রমিকরা যখন মাটির গভীরে খননকাজ চালাচ্ছিলেন, তখনই হঠাৎ করে ওপর থেকে বিশাল মাটির স্তূপ ধসে পড়ে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ধসে পড়া মাটির নিচে শত শত শ্রমিক আটকা পড়েছেন। নিহতদের মধ্যে খনি শ্রমিক ছাড়াও সেখানে উপস্থিত অনেক নারী ও শিশু রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যারা সাধারণত খনির আবর্জনা থেকে ছোটখাটো খনিজ সংগ্রহ বা খাবার বিক্রির জন্য সেখানে অবস্থান করছিল।

উদ্ধার অভিযান ও চ্যালেঞ্জ
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ব্যাহত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে, যা উদ্ধারকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবীরা মাটি সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে সময়ের সাথে সাথে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত বেশ কিছু মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও খনিজের গুরুত্ব
দুর্ঘটনাকবলিত রুবায়া খনিটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান কোলটান (Coltan) উৎপাদনকারী এলাকা। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে কোলটান একটি অপরিহার্য উপাদান।

তবে এলাকাটি বর্তমানে এম২৩ (M23) বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, বিদ্রোহীরা তাদের অস্ত্র ও যুদ্ধের খরচ মেটাতে এই খনিজ সম্পদ অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচার করে আসছে। খনিগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কোনো বালাই নেই এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তাদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়। জাতিসংঘের মতে, এই অবৈধ খনিজ ব্যবসাই এই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো খনি শ্রমিকদের, বিশেষ করে শিশুশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় খনিজ সম্পদের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।