আনুষ্কা–আথিয়াকে নিয়ে হরভজনের বিতর্কিত মন্তব্যে সমালোচনার ঝড়

19th November 2023 10:58 pm Sport
আনুষ্কা–আথিয়াকে নিয়ে হরভজনের বিতর্কিত মন্তব্যে সমালোচনার ঝড়


খেলোয়াড়ি জীবনে এমনকি খেলা ছাড়ার পরও নানা কারণে বিতর্কিত ছিলেন হরভজন সিং। এবার বিশ্বকাপ ফাইনাল চলাকালে বেফাঁস মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের সাবেক এই স্পিনার। হরভজন মন্তব্যটি করেছেন দুই ভারতীয় অভিনেত্রী আনুষ্কা শর্মা ও আথিয়া শেঠিকে নিয়ে।

 

আজ ভারত–অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারিতে বসেছে তারার মেলা। শাহরুখ খান, রণবীর সিং, দীপিকা পাডুকোন, আনুষ্কা ও আথিয়ারা গ্যালারি থেকে সমর্থন দিচ্ছেন দলকে। আনুশকা ও আথিয়ার জন্য এই ম্যাচটি আবার একটু বেশি স্মরণীয়। এই ম্যাচে তাঁদের জীবনসঙ্গী বিরাট কোহলি এবং লোকেশ রাহুল দেশকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে লড়ছেন।

ফাইনালের দিন গ্যালারিতে এই দুই অভিনেত্রী বসেছেনও এক জায়গায়। যেখানে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রোহিত শর্মা–রবীন্দ্র জাদেজাদের স্ত্রীরাও। ম্যাচের একপর্যায়ে কোহলি–রাহুল যখন দলের বিপর্যয়ের মুখে জুটি গড়ে লড়ছিলেন, তখন ক্যামেরায় ধরা পড়ে আথিয়া ও আনুশকার মুখ। সে সময় নিজেদের মধ্যে আলাপ করছিলেন আনুষ্কা ও আথিয়া। এ দুজনকে যখন ক্যামেরায় দেখানো হচ্ছিল, তখন হিন্দিতে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন হরভজন। আর তখনই বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন সাবেক এই ক্রিকেটার। হরভজনকে তখন বলতে শোনা যায়, ‘আমি এটা ভাবছি যে তারা ক্রিকেট নিয়ে কথা বলছে নাকি সিনেমা নিয়ে। কারণ, আমি জানি না তারা ক্রিকেট সম্পর্কে কতটা জানে।’ তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি। আর এই কথা নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে জোর বিতর্কও। কেউ কেউ হরভজনের কথাটিকে ‘নারী বিদ্বেষী’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন লিখেছেন, ‘হিন্দি ধারাভাষ্যে প্রকাশ্যে আনুশকা শর্মার ক্রিকেট জ্ঞান নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে। আমরা কবে শোধরাব ভাই। সে শুধু আনুষ্কা নয়, সে বিরাট কোহলির স্ত্রী, যে কিনা সম্প্রতি ইতিহাস গড়েছে। সবার সামনে এভাবে কাউকে নিয়ে উপহাস করা খুবই বাজে ব্যাপার।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘ধারাভাষ্যকার বলছে, আনুষ্কা ও আথিয়া ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার ফাইনালে নিশ্চয়ই চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলছে কারণ, “ক্রিকেট নিয়ে তাদের খুব বেশি জ্ঞান নেই”। এটা ঘৃণ্য। বিষয় যা–ই হোক, নারীবিদ্বেষ সর্বব্যাপী।’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘হরভজনকে ধারাভাষ্য থেকে বাদ দেওয়া হোক।’





Others News

ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে পাকিস্তানের বিপদ বাড়ছে? আইসিসির মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত

ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে পাকিস্তানের বিপদ বাড়ছে? আইসিসির মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত


টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না পাকিস্তান—এমনই জোরাল জল্পনা এখন ক্রিকেটমহলে। যদিও এখনও সরকারিভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), তবু বোর্ডের অন্দরেই নাকি এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রথমবার গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলল আইসিসি।

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট কোনও দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করা ক্রিকেটের আদর্শ ও স্বার্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আইসিসির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু সংশ্লিষ্ট দল নয়, গোটা টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। আইসিসির বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, পাক বোর্ডের এই অবস্থানের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

এই আবহে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরেও পাকিস্তানের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইসিসি বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাতিল করতেই পাকিস্তান প্রকাশ্যে সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। পাক বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি দাবি করেন, বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া অন্যায্য। এমনকি আইসিসির একাধিক ভোটাভুটিতেও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তান। সেই সূত্র ধরেই গুঞ্জন ওঠে, বাংলাদেশ ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কটও করতে পারে।

তবে বাস্তবে পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না—এই সিদ্ধান্তেই নাকি অনড় পিসিবি। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সতর্কতামূলক বিবৃতি জারি করেছে আইসিসি।

আইসিসির বক্তব্যে বলা হয়েছে, “বিশ্বমানের যে কোনও প্রতিযোগিতার মূল ভিত্তি হল যোগ্যতা অর্জনকারী সমস্ত দল সমানভাবে অংশ নেবে। প্রতিপক্ষ বেছে নিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত ক্রিকেটীয় নীতির পরিপন্থী। আইসিসি আয়োজিত টুর্নামেন্টগুলির লক্ষ্য স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা, কিন্তু এই ধরনের বয়কট সেই স্বচ্ছতায় গুরুতর আঘাত হানে।”

বিবৃতির আরও একাংশে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশের সরকার তাদের জাতীয় নীতি নির্ধারণে স্বাধীন এবং আইসিসি তা সম্মান করে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে তাদের নিজেদের ক্রিকেট কাঠামোর উপরই।

এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের জন্য বড় কোনও শাস্তির মুখে পড়তে চলেছে পাকিস্তান? ক্রিকেটমহলের একাংশের অনুমান, পিসিবির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে সেই শাস্তির মাত্রা কতটা কড়া হবে, সেটাই এখন দেখার।