কলা খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে, তা সত্ত্বেও রোজ একটি করে কলা খেতে বলা হয় কেন?

3rd March 2024 10:30 pm Country News
কলা খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে, তা সত্ত্বেও রোজ একটি করে কলা খেতে বলা হয় কেন?


সকালের জলখাবারে টোস্ট, দুধ-কর্নফ্লেক্স, পরিজ়ের সঙ্গে কলা খাওয়ার চল রয়েছে অনেক বাড়িতেই। তবে তরুণ প্রজন্ম মনে করেন, কলা খেলেই না কি ওজন বেড়ে যায়। তাই এই ফলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেই পছন্দ করেন অনেকে। তবে কলায় যে ক্যালোরির পরিমাণ অনেকটা বেশি, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এই ফল খেলে ওজন বাড়তে পারে। আবার যাঁদের ডায়াবিটিস রয়েছে তাঁদের জন্যেও এই ফল ভাল নয়। তবে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, সাধারণেরা রোজ একটি করে কলা খেলে খুব একটা ক্ষতি হবে না বরং উপকারই হবে। কলা খেলে কী রকম উপকার হবে?

১) পটাশিয়ামের উৎস

 

রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে কলা। কারণ, এই ফলের মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম। হার্ট ভাল রাখতে এবং পেশি মজবুত রাখতে এই খনিজের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।

২) হজমে সহায়ক

 

এই ফলে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার। বিজ্ঞানীদের মতে, ২৫ গ্রাম মতো ফাইবার খেলে হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা এক ধাক্কায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। ফলে কলা খেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও কমবে।

 

৩) শক্তি জোগায়

 

কায়িক পরিশ্রমের কাজ করলে শক্তি প্রয়োজন। তৎক্ষণাৎ শক্তির জোগান দিতে অস্বাস্থ্যকর খাবার না খেয়ে কলা উপর ভরসা রাখতে পারেন। এই ফলের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট এবং বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন। শরীরচর্চা করার আগে কিংবা পরেও কলা খাওয়া যেতে পারে।

৪) পেশি মজবুত করে

 

দুর্বল পেশি, পেশিতে ব্যথা কিংবা টান লাগার সমস্যায় দারুণ কাজ করে কলা। কলার মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম। এই খনিজটি পেশি মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

 

৫) হাড়ের জন্য ভাল

 

কম বয়স থেকেই হাড়ের যত্ন নিতে হয়। না হলে দেহের কাঠামোটিই নড়বড়ে হয়ে পড়ে। হাড়ের যত্নে ক্যালশিয়ামের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। কলা এই খনিজ শোষণ করতে সাহায্য করে। যা পরবর্তী কালে অস্টিয়োপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।