"সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ৫০০ টাকার নোটের ছবি: মহাত্মা গান্ধীর বদলে বি. আর. আম্বেদকরের ছবি, সত্যতা যাচাইয়ে ভুয়ো দাবি"

26th December 2024 11:26 am Country News


সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় ৫০০ টাকার নোটে মহাত্মা গান্ধীর বদলে বি. আর. আম্বেদকরের ছবি ছাপা হয়েছে। এই ছবি দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন, এবং এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে এটি সম্ভবত নতুন কোনও সংস্করণ বা পরিবর্তিত নোট। তবে, এটি একেবারে ভুল তথ্য এবং একটি ভুয়ো ছবি।

প্রথমত, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) বা ভারত সরকার কোনও ধরনের নোটে মহাত্মা গান্ধীর ছবি পরিবর্তন করার কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। ৫০০ টাকার নোটের বর্তমান সংস্করণে মহাত্মা গান্ধীর ছবি ছাপানো হয়েছে, যা ২০১৬ সালে ৫০০ টাকার নতুন নোট সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর আগে, ২০০৫ সালের পরবর্তী সময়ে গান্ধীজির ছবিসহ এই নোটগুলি বাজারে আসে। ভারতীয় নোটে সাধারণভাবে মহাত্মা গান্ধীকে একটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন।

আরও বললে, বি. আর. আম্বেদকর, যিনি ভারতের সংবিধানের রূপকার এবং একজন মহান সমাজ সংস্কারক, তিনি অবশ্যই ভারতীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তবে তাঁর ছবি কখনও ৫০০ টাকার নোটে ছাপানো হয়নি, এবং এ ধরনের কোনও উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।

যে ছবি ভাইরাল হয়েছে, তা সম্ভবত কোনও ডিজিটাল বা ম্যানিপুলেটেড ছবি, যা কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কল্পনাপ্রসূতভাবে তৈরি করেছে। এই ধরনের ভুয়া খবর বা ছবি বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, এবং সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই এর সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) ও ভারত সরকার নিয়মিতভাবে নোট সম্পর্কিত কোনও আপডেট বা পরিবর্তন নিয়ে তথ্য প্রকাশ করে। যদি কখনও কোনও নতুন নোট বা সংস্করণ চালু হয়, তবে সেটি সাধারণভাবে সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ঘোষণা করা হয় এবং সরকারী সোর্স থেকে তথ্য পাওয়া যায়।

সামাজিক মাধ্যমে এই ধরনের ভুয়া ছবি বা খবর শেয়ার করার আগে, বিশেষজ্ঞদের বা সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করা উচিত। সরকারি নোটে কোনো পরিবর্তন বা নতুন নোট চালু হওয়ার আগে, এটি নিশ্চিত করা জরুরি যাতে ভুল তথ্যের প্রচার রোধ করা যায়।

সংক্ষেপে, ৫০০ টাকার নোটের ওপর বি. আর. আম্বেদকরের ছবি থাকা একেবারেই ভুল এবং এটি কোনও প্রকারের ভুয়া বা ম্যানিপুলেটেড ছবি।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।